ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন ২০২৩:- দলিল যার জমি তার।
২০২৩ সালে জাতীয় সংসদের পাস হয় উক্ত আইনটি। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন ২০২৩:- দলিল যার জমি তার।আইনটি বর্তমানে বলবৎ হয়েছে। বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মামলাও অত্র আইনে দায়ের হয়েছে দেশের বিভিন্ন আদালতে। দলিল যার জমি তার এই স্লোগান অত্র আইনের বিষয়ে দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে জমির মালিক নির্ধারণের জন্য এই আইনে নিন্মোক্ত দলিলধারীগন ভূমির মালিক:-
- সর্বশেষ প্রকাশিত খতিয়ানের মালিক
- উক্ত খতিয়ানের মালিক এর ওয়ারিশ
- উক্তরুপ মালিক বা তার ওয়ারিশগনের নিকট হতে ক্রয় বা হস্তান্তর গ্রহীতা
- আদালতের রায় ডিক্রী প্রাপ্ত ব্যাক্তি
অর্থাৎ উপরোক্ত প্রকারেও জমির মালিক হতে পারে।
কি কি প্রতিকার অত্র আইনে পেতে পারেন ?
১. ভূমি বিষয়ক প্রতারণার অভিযোগ।
২. অবৈধ ভূমির মালিকানা দাবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ।
৩. অবৈধ ভাবে ভূমি হতে উচ্ছেদ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ।
৪.বেদখলকৃত ভূমি পুনরুদ্ধার।
৫.ভূমির শ্রেনীর ক্ষতি সাধিত হলে প্রতিকার।
৬.ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:-
১. ভূমি বিষয়ক অপরাধ অত্র আইনের ৪ ধারায় উল্লেখ আছে। অন্যের মালিকাধীন ভূমি নিজের বলে প্রচার করা,তথ্য গোপন করে জমি হস্তান্তর, মালিকানার অতিরিক্ত ভূমি বিক্রি, মিথ্যা তথ্য দিয়ে দলিল করা ইত্যাদি অত্র ধারা মোতাবেক অপরাধ। যার জন্য শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড রয়েছে।
২. ভূমি বিষয়ক জালিয়াতি করে কেউ মিথ্যা দলিল করলে তজ্জন্য দায়ী ব্যাক্তির ৫ধারা মোতাবেক ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বিধান রয়েছে।
৩.কেউ অবৈধ ভাবে অন্যের মালিকাধীন ভূমি দখল করলে তজ্জন্য দায়ী ব্যাক্তি ধারা ৭ মোতাবেক দায়ী ব্যাক্তির ২বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বিধান রয়েছে।
৪.অবৈধ ভাবে দখলচূ্্যত ব্যক্তি ৮ ধারা মোতাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট আবেদন করে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট আবেদন এর প্রেক্ষিতে তদন্ত বা উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই ক্ষেত্রে কেউ আদেশ অমান্য করলে ১৫ ধারা মোতাবেক ২ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বিধান রয়েছে।
৫. কেউ আপনার ভূমির সীমানা ক্ষতি সাধিত করলে এবং ভূমিতে থাকা স্থাপনা, বৃক্ষ ও ফসলের ক্ষতি সাধন করলে তজ্জন্য ৯ ধারা মোতাবেক ২ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বিধান রয়েছে।
উপরোক্ত আইনে ভোক্তভোগী ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পেতে পারেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন